শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

সাইফুল্লাহ মাহমুদ (সাইফ)।। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি গত রাতে উপকূলীয় এলাকা পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য মতে আজকে সকাল ৯টার পরে গভীর স্থল নিম্বচাপটি টাঙগাইল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। ফলে উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃস্টি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩নং স্থানীয় সতর্ক সংকেট দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
গভীর নিন্মচাপটির কারণে ২৮ মে ২০২৫ সন্ধ্যা থেকে কলাপাড়ায় ঝড়ো হাওয়া সহ ভারী বৃস্টিপাত হচ্ছে। ২৯ মে ২০২৫ দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ পরিমাণ ৯১ মি:মি: বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃস্টি হয়েছে।
গভীর নিন্মচাপটি উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করার সময়ে আমাবস্যার জোয়ার ছিল। তাই ২৯ মে ২০২৫ দুপুর ১২টার দিকে ও রাত ১২টার দিকে এবং ৩০ মে ২০২৫ দুপুর ১২টার দিকে ৩ফুট থেকে ৫ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসে পানিতে কলাপাড়ার সকল ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ফলে বেড়িবাঁধের বাহিরের এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় কলাপাড়া উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে বেড়িবাঁধের বাহিরে প্রায় ৭০০০ পরিবার বসবাস করেন। এই পরিবারগুলো জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। যাদের অধিকাংশ পরিবার দুই দিন স্বাভাবিক রান্না করতে পারেনি। কোথাও কোথাও জোয়ারের পানিতে ঘরের জিনিসপত্র ভেসে গেছে।
কলাপাড়া উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার বিদ্যুৎগ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন। উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের দুটি জোনাল অফিস রয়েছে। সেখানে মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি গ্রাহক গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছেন। বিদ্যুৎ লাইনের উপর গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ায় এখন পর্যন্ত এসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা যায়নি। আমার অফিসে আজকে দুপুরের পর বিদ্যুৎ চালু হয়েছে। গতকাল মধ্যরাতে দুইবার বিদ্যুৎ আসলেও কিছুক্ষণের মধ্যে আবার বন্ধ হয়ে গেছে।
উপজেলা প্রশাসনের আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতি ও জরুরি চাহিদা (এসওএস) নিরূপন প্রতিবেদনের তথ্য মতে দুর্গত মানুষের সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮০ জন। এছাড়াও ৪৬০টি বাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলার অধিকাংশ ফসলী মাঠে কোন ফসল না থাকায় কৃষি খাতে তুলনামূলক খয়ক্ষতি অনেক কম। তবে যারা বিভিন্ন সবজি বানিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করেছেন বিশেষ করে করল্লা, লাউ, কাঁচামরিচ এবং বোম্বাই মরিচ তাদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরা এই ধরনের সবজীর বানিজ্যিক চাষ বেশী করেন।
তিন নম্বর সতর্ক সংকেত ঘোষণার কারণে ত্রাণ সহায়তা বিতরণের কোন উদ্যোগ এখনও গ্রহণ করা হয়নি। তবে সিপিপি সদস্যরা দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply